ফমেক হাসপাতালে কর্মবিরতিতে টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা, ভোগান্তিতে রোগীরা
১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে দুইঘন্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। তাঁদের এই কর্মবিরতির সময়ে অসহনীয় ভোগান্তি পোহাতে দেখা যায় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা আসা রোগীদের, ফার্মেসী বিভাগে দীর্ঘ সময় লম্বা লাইনে দাড়িয়ে থাকেন অনেকে।
আজ রোববার সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত হাসপাতালের নতুন ভবনের সামনে দাড়িয়ে এই কর্মসূচি পালন করেন। একই সময়ে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালেও কর্মবিরতি পালন করা হয়। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে আগামী ৩ ডিসেম্বর অর্ধদিবস ও ৪ ডিসেম্বর কমপ্লিট শাটডাউন (পূর্ণ কর্মবিরতি) কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ বৈষম্যর শিকার হয়ে আসছেন। তাঁদের সমমনা কৃষি, প্রকৌশলী ও নার্স ডিপ্লোমাধারীদের ১১ তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেড করা হলেও আজও বৈষম্যের শিকার তাঁরা। নিজেদের মর্যাদা রক্ষার দাবিতে বাধ্য হয়ে রোগীদের সেবা বন্ধ রেখে কর্মবিরতির ডাক দেয়া হয়েছে।
এ সময় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শেখ রুহুল আমিন বলেন- “আমরা অনেকবার আন্দোলন করেছি, অনেকবার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। আমাদের ফাইল অদৃশ্য কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আটকা পড়ে আছে। এরমধ্যে সরকারকে আমরা ৯৬ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম, আমাদের কথা রাখেননি। আমাদের মর্যাদা লড়াইয়ের জন্য সারাদেশের মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা আজ সোচ্চার। আমাদের দাবি মেনে না নেয়া হলে ৪ ডিসেম্বর কমপ্লিট শাটডাউনে চলে যাব। এ সময়ে রোগীদের ভেগান্তি হলে সেই দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।”
এদিকে তাঁদের এই কর্মসূচি চলাকালে হাসপাতালে প্যাথলোজি, ব্লাড ব্যাংক, রেডিজলেজি সহ বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে আসা রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে দেখা গেছে। রাজবাড়ীর পাংশা থেকে হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন মো. কুতুবউদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- “সকালে চিকিৎসক দেখে ভাঙ্গা হাতের এক্সরে করতে দিয়েছে, ৯ টার দিকে এসে দেখি এখানে কেউ নেই, শুনেছি তাঁরা কর্মবিরতিতে গিয়েছে। সকাল থেকেই বসে আছি, কেউ কোনো কাজ করছে না।”
অপরদিকে ফার্মেসী বিভাগে গিয়েও দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এ সময় ওষধ নিতে আসা রোগীর স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।









