ফরিদপুরে ধানের শীষের মিছিল নিয়ে রিকশার প্রার্থীর গাড়ীর বহরে হামলা প্রচারণায় বাঁধা ও এজেন্টদের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
ফরিদপুরে ধানের শীষের মিছিল নিয়ে ১১ দলীয় জোটের ফরিদপুর ২ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা শাহ মো. আকরাম আলী ওরফে ধলা হুজুরের গাড়ির বহরে হামলা, নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা, এজেন্টদের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
তার গাড়ি বহরে হামলা এবং কর্মী-সমর্থক ও এজেন্টদের হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন। আজ রোববার বেলা ১১ টায় নিজ প্রতিষ্ঠান সালথা উপজেলার বাহিরদিয়া মাদ্রাসায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ করেন এই প্রার্থী।
জানা যায়, মাওলানা শাহ মো. আকরাম আলী ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে রিকশা প্রতীকে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও ধলা হুজুর নামে পরিচিত। তাঁর প্রতিপক্ষ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের কন্যা ধানের শীষ প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম (রিংকু)। এছাড়া এই আসনে বিভিন্ন দলের আরও চারজন প্রার্থী রয়েছেন। তবে মূল লড়াই এই দুজনের মধ্যে হবে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বুড়িদিয়া বাজারে গণসংযোগকালে তাঁর গাড়ি বহরে হামলা ও লাঞ্ছিত করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান। লিখিত বক্তব্যে এই প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, বুড়িদিয়া বাজারে গণসংযোগের জন্য পৌঁছলে স্থানীয় বাজারে বিএনপি নির্বাচনী অফিস থেকে একদল উচ্ছৃঙ্খল ধানের শীষের মিছিল নিয়ে অশালীন ভাষায় শ্লোগান দিতে থাকে। আমার নির্বাচনী প্রচারে বাঁধা এবং আমার গাড়ি আটকে দিয়ে আমার রিক্সা মাকার নেতৃবৃন্দের উপর হামলা করে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কিত। ইতিমধ্যে আমার আসনে রিকশা মার্কার বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের হুমকি ও এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং অফিসার সহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার দের নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তথা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান।
এ ঘটনায় তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের আহ্বান জানান এবং হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে ২৪ ঘন্টা আল্টিমেটাম দেন তাঁর সমর্থকেরা। এ সময়ের মধ্যে গ্রেফতার না করা হলে বৃহৎ কর্মসূচি দিবেন বলে জানান। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ হিসেবে কয়েকজন কাফনের কাপড় পড়ে অবস্থান নেন।
এ সময় তাঁর সমর্থক সিরাজ মাতুব্বর তিনজনের নাম প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী ইমামুল হোসেন তারা মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মোল্যা এবং জাহিদ মাতুব্বরের ইন্ধনে এই হামলা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা সবাই বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক। এছাড়া আমরা জানতে হামলার সময় পেরেছি ইমামুল হোসেন তারা মিয়া উপস্থিত ছিলেন। ভোটারদের গণজোয়ারে ভীতু হয়েই আমাদের ওপর হামলা করছে।
সেনা বাহিনী সূত্রে জানাযায়, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন সেনাবাহিনী। এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। এ ঘটনার সত্যতা যাচাই-পূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
তবে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সেখানে হামলার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া ঘটনাটি নিয়ে থানায় কেউ অভিযোগও দেয়নি।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি নিয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ দেননি। জেনেছি, ওনারা তাৎক্ষণিক সেনা ক্যাম্পে খবর দিলে সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশ সেখানে ছুটে যায় এবং মিমাংসা হয়ে যায়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা সর্বদা তৎপর রয়েছি এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করি।
এদিকে হামলা বা প্রচারণায় বাঁধা দেয়ার বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেন ইমামুল হোসেন তারা মিয়া বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি নেত্রীর মিটিংয়ে ছিলাম। পরে ওই বাজারে গিয়ে শুনেছি- পোলাপান ঘরের ভেতর থেকে মাইকে মিছিল দিয়েছিল এবং তাঁর গাড়িতে হাতও দেয়নি। আমাদের নামে মিথ্যাচার করা হয়েছে।









