আড়াই মাসেও সন্ধান মিলেনি গৃহিনী রেবেকার
নিখোঁজ হওয়ার আড়াই মাস অতিবাহিত হলেও আজও সন্ধান মেলেনি রাজবাড়ী জেলার সুলতানপুরের গৃহিনী রেবেকা বেগমের। গত ১ জানুয়ারী বুধবার সকাল ৯টার দিকে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ রেবেকা বেগম রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের জালদিয়া গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ রেবেকা প্রতিদিন পাশের এলাকা তার বাবার জন্য বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে যেতেন। প্রতিদিনের মত ঐ দিনও (১ জানুয়ারী ২০২৫) খাবার নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। গত ১ জানুয়ারী আনুমানিক সকাল ৯টার দিকে তিনি বে হয়ে আর বাড়িতে ফেরত আসেননি।
এ ব্যাপারে নিখোঁজ রেবেকার স্বামী মো. নজরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, “আমার স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার মত এমন কোন কারণ আমাদের পরিবারের সাথে ঘটেনি। তার বাপের বাড়ি মধুখালী থানার জগন্নাথদী গ্রামে। আমাদের এখান থেকে মাত্র ৪ কি.মি. দূরে। প্রতিদিন সে তার বাবার জন্য আমাদের বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে যায় এবং সাথে সাথে চলে আসে। কিন্তু ১ তারিখের পর আর তাকে খুঁজে পাচ্ছিনা। আমার ধারণা তাকে কেউ গুম করা করেছে। তা না হলে এতদিন একজন মানুষ এমনি এমনি নিখোঁজ থাকতে পারে না।”
নিখোঁজ রেবেকা বেগমের ছেলে শরীফুল ইসলাম, জানান, “আমরা আমাদের প্রায় সকল আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেছি। কিন্তু কোথাও তার মায়ের সন্ধান পাননি। রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাগুরাসহ আশপাশে সব জায়গায় পোস্টারিং করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই মায়ের সন্ধান পাচ্ছি না। গত ২৫ জানুয়ারি তারিখে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছি। কিন্তু মাকে খুঁজে দেওয়ার বিষয়ে পুলিশেরও তেমন তৎপরতা নেই।”
এ বিষয়ে নিখোঁজ রেবেকার বড় কন্যা আবৃত্তি ইসলাম লিজা দৈনিক কুমারকে বলেন, “আমাদের পূর্বের পারিবারিক বিভিন্ন সাংঘর্ষিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সন্দেহ প্রকাশ করছি, আমার মাকে গুম অথবা হত্যা করা হতে পারে। কারণ, আমাদের পারিবারিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করার জন্য ষড়যন্ত্র করে বিগত এক বছর পূর্বে আমার মেজ ভাই সুমন মুন্সি কে ফুসলিয়ে আমার মায়ের আপন মামাতো বোনের সঙ্গে বিবাহ করানো হয়। সামাজিকভাবে বিকৃত সম্পর্ক হওয়ায়, আমার মা বাবা তা মেনে নেয়নি। এই ঘটনার পরবর্তীতে আমার বাবা উক্ত কন্যা সিনথিয়া ইয়াসমিন স্নিগ্ধার মা দিপালী বেগম কে সাথে নিয়ে ফরিদপুর সদর থানা একটি জিডি করেন। পারিবারিকভাবে স্নিগ্ধা এবং সুমন মুন্সির বনিবনাদ না হওয়ায় আমার ভাই সুমন মুন্সী স্বেচ্ছায় তালাক প্রদান করেন। তালাকের পর স্নিগ্ধার আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি প্রদান করতে থাকে। এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার ভাই সুমন মুন্সিকে জোর করে তুলে নিয়ে পরিবারের সকলের অগোচরে জোরপূর্বক ভাবে আমার ভাইকে বিবাহ করাতে বাধ্য করে এবং ২০ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য করে। এ ঘটনা আমার বাবা-মা কেউই মেনে নিতে পারেনি বলে বিভিন্নভাবে তাদেরকে হুমকি প্রদান করতে থাকে। গত ১ নভেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গোপনে বিবাহের দুই মাস পর গত ১ জানুয়ারী ২০২৫ইং তারিখে আমার মা জগন্নাথদি গ্রাম থেকে নিখোঁজ হন। সমস্ত ঘটনা পর্যালোচনা করে সন্দেহ ও আশঙ্কা প্রকাশ করছি প্রায় তিন মাস অজ্ঞাতভাবে আমার মা থাকতে পারেন না। আমি ও আমার পরিবার সন্দেহ করছি, পূর্ব শত্রুতার জেরে আমার মাকে গুম অথবা হত্যা করা হয়েছে। আমরা আমার মাকে ফেরত চাই। প্রশাসনের কাছে আমার জোর দাবি, সমস্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আমার মায়ের অপহরণ কিংবা গুম কিংবা হত্যার বিচার চাই।”
এ ব্যাপারে রাজবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. রাসেল মোল্যা, জানান, ইতিমধ্যে শুনেছিলাম বাগেরহাট জেলার কোথাও তাকে দেখা গেছে। এরপর আমরা সেখানকার পুলিশের সাহায্যে সন্ধানের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পাইনি। অন্ততঃ হাতে মোবাইল ফোন থাকলেও আমরা মোবাইল ট্রেস করে তাকে পেতাম। তারপরও আমরা নিখোঁজের সন্ধানের আপ্রাণ চেষ্টার চালাচ্ছি। উল্লেখ্য, গত ২৫ জানুয়ারী ২০২৫ ইং তারিখে রাজবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করা হয়েছে। জিডি নং-১২১৫।