চাঁদার টাকার ঈদ উপহার গ্রহন করেন নাই ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়ি
বোয়ালমারী উপজেলার ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে ঈদ উপলক্ষে একটি খাসি দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় বিভিন্ন দোকানীদের নিকট থেকে চাঁদা তুলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন দোকান ও রুপাপাত বাজার ঘুরে জানা যায়, রুপাপাত ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কালাম মোল্যা, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার মেম্বার ও বাজার বণিক সমিতির সভাপতি লক্ষণ মন্ডলের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত কালিনগর বাজারের সভাপতি, রূপাপাত ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি,ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে ঈদে উপলক্ষে একটি খাসি কিনে দেয়ার কথা বলে বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে
চাঁদা তোলেন। জানাযায়, ওই চাঁদার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা স্থানীয় এক মেম্বারের মাধ্যমে পুলিশ ফাঁড়িতে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফাঁড়ির ইনচার্জ মাইকেল মধুসুদন পান্ডে টাকা নেবে না বলে ছাপ জানিয়ে দেন । পরে ঐ মেম্বার টাকা গুলো বাজারের সভাপতি লক্ষণ মন্ডলের কাছে ঈদের দিন বিকালে ফিরিয়ে দেন।
বাজারের ব্যবসায়ী সুজিত পাল, উত্তম দত্ত, কৃষ্ণ মালো বলেন, ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে খাসি কিনে দেবে বলে কালাম মোল্যা, সানোয়ার মেম্বার, লক্ষণ মন্ডল আমাদেরসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩শ, ৫শ করে টাকা উঠিয়ে নিয়েছে।
এ ব্যাপারে কালিনগর গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম বলেন, ঈদের দুই-তিন দিন আগে ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কালাম মোল্যা, সানোয়ার মেম্বর, বাজারের বণিক সমিতির সভাপতি লক্ষণ মন্ডল ফাঁড়ির পুলিশকে খাসি কিনে দেবে এ কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫শ’ ৩শ’ ১ হাজার টাকা করে চাঁদা তুলেছে। তিনি আরো বলেন, এই চাঁদা তোলার ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাজারে মোট ব্যবসায়ী রয়েছে ৭ শতর মতো। চাঁদা তোলার বিষয়টি ওসিকে জানানো হয়েছে।
কালাম মোল্যা, সানোয়ার মেম্বর ও লক্ষণ মন্ডল বলেন, বিগত ঈদগুলোতেও বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তুলে ফাঁড়িতে খাসি কেনার জন্য দেওয়া হয়। তাই এ বছরও টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। একটি মহল টাকা তোলার বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা করছে। পরে ৩১ মার্চ বিকেলে সকল ব্যবসায়ীর টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মেম্বর বলেন, খাসি কেনার টাকা আমার কাছে দিয়েছিল। পুলিশ না নেওয়ার কারনে ওই ১০ হাজার টাকা বাজারের বনিক সমিতির সভাপতি লক্ষনের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মধু সুদন পান্ডে বলেন, আমাদের ফাঁড়িতে কেউ কোন টাকা দেয়নি। তিনি আরো বলেন, পুলিশ ফাঁড়ির কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কালাম মোল্যা, সানোয়ার মেম্বর ও লক্ষণ মন্ডল টাকা তোলেছে শুনেছি। কেউ যদি লিখিত অভিযোগ করেন আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। তাছাড়া কালাম মোল্যার নামে মামলা রয়েছে তাকে পুলিশ খুজছে গ্রেপ্তারের জন্য।
থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, পুলিশের কথা বলে টাকা তোলার বিষয়টি শুনে ফাঁড়ির ইনচার্জের কাছে জানতে চাইলে সে জানায় কিছু লোক ফাঁড়ির কথা বলে টাকা উঠিয়েছে শুনেছি। যদি কোন ব্যবসায়ী লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।