ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফমেক হাসপাতালে কর্মবিরতিতে টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা, ভোগান্তিতে রোগীরা বৈষম্য নয়, বাস্তবায়নের দাবি এমপিওভূক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের ইসলামী দলগুলোর পাথর দিয়ে মানুষ মারা ও চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির বদনাম নাই: জনসভায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ফরিদপুরে বাইসো-এর কর্মশালা: কৌতুহলবশত সাইবার অপরাধে জড়াচ্ছে যুবসমাজ ফরিদপুরে দুর্বৃত্তদের দিয়ে বসতঘর ভাঙচুর, ভিডিও করায় সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত কোটালিপাড়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান  ফরিদপুরে ও রাজবাড়ীতে পূজামন্ডপে র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা নিয়ে ব্রিফিং, গুজব নিয়ে হুশিয়ারি সালথায় জামায়াতে ইসলামী’র বিক্ষোভ সমাবেশ দেশে খুন হচ্ছে বিচার হচ্ছে না হাতপাখায় ভোট দিলে দেশ নিরাপদে থাকবে : – মুফতী ফয়জুল করীম ফরিদপুরে গ্রামীণ ফুটবল খেলায় ম্যাচসেরাকে গাছের চারা উপহার, মাতলো হাজারো দর্শক

রাজবাড়ীতে সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, ৪ লাখ টাকায় রফা

বিশেষ প্রতিনিধি:

রাজবাড়ী জেলা শহরের বড়পুল এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি রতন ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর শাহানা খাতুন (৪০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মৃত্যুর পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীর পরিবারকে চার লাখ টাকা প্রদান করে বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করে নেয়। নিহত শাহানা রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের মাটিপাড়া গ্রামের ফারুক মণ্ডলের স্ত্রী। এরআগে গত বুধবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে রেফার করে রতন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই রাতেই ক্লিনিকে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের নেতৃত্বে ছিলেন ক্লিনিকের মালিক ডা. রইসুল ইসলাম রতন। সহযোগিতায় ছিলেন ডা. নিয়ামত উল্লাহ ও ডা. রাবেয়া আক্তার।

অপারেশনের পর শাহানার শরীরে ‘এক্ল্যামশিয়া’ জাতীয় জটিলতা দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পরই তার মৃত্যু ঘটে। শাহানার গর্ভে থাকা নবজাতক পুত্র সন্তান সুস্থ রয়েছে। এর আগে তার আরও চারটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

স্থানীয় জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ১২ হাজার টাকায় চুক্তিভিত্তিতে শাহানাকে রতন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার সকালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের মধ্যে আলোচনায় বসা হয়। আলোচনার একপর্যায়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হলেও, শেষ পর্যন্ত চার লাখ টাকায় ‘মীমাংসা’ হয়। ফলে স্বজনরা আর কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি।

এ বিষয়ে ক্লিনিকের অ্যাডমিন ও ফিন্যান্স ম্যানেজার আকলিমা আক্তার তমা বলেন, সদর হাসপাতাল থেকে রোগীকে আনা হয়েছিল। সিজার করার পর তার অবস্থা খারাপ হলে ফরিদপুরে পাঠানো হয়। সেখানে তার মৃত্যু ঘটে।

ক্লিনিকের ম্যানেজার আমজাদ হোসেন জানান, রোগীর মৃত্যুর পর পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। তবে কত টাকা লেনদেন হয়েছে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. মাসুদ বলেন, আমরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। শুনেছি আগেও ওই ক্লিনিকে এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু লিখিত অভিযোগ না থাকায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, এর আগেও রতন ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর একাধিক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। প্রতিবারই আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো ধামাচাপা পড়ে যায়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৯:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫
১৯৮ বার পড়া হয়েছে

রাজবাড়ীতে সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, ৪ লাখ টাকায় রফা

আপডেট সময় ০৯:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫

রাজবাড়ী জেলা শহরের বড়পুল এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি রতন ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর শাহানা খাতুন (৪০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মৃত্যুর পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীর পরিবারকে চার লাখ টাকা প্রদান করে বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করে নেয়। নিহত শাহানা রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের মাটিপাড়া গ্রামের ফারুক মণ্ডলের স্ত্রী। এরআগে গত বুধবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে রেফার করে রতন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই রাতেই ক্লিনিকে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের নেতৃত্বে ছিলেন ক্লিনিকের মালিক ডা. রইসুল ইসলাম রতন। সহযোগিতায় ছিলেন ডা. নিয়ামত উল্লাহ ও ডা. রাবেয়া আক্তার।

অপারেশনের পর শাহানার শরীরে ‘এক্ল্যামশিয়া’ জাতীয় জটিলতা দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পরই তার মৃত্যু ঘটে। শাহানার গর্ভে থাকা নবজাতক পুত্র সন্তান সুস্থ রয়েছে। এর আগে তার আরও চারটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

স্থানীয় জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ১২ হাজার টাকায় চুক্তিভিত্তিতে শাহানাকে রতন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার সকালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের মধ্যে আলোচনায় বসা হয়। আলোচনার একপর্যায়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হলেও, শেষ পর্যন্ত চার লাখ টাকায় ‘মীমাংসা’ হয়। ফলে স্বজনরা আর কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি।

এ বিষয়ে ক্লিনিকের অ্যাডমিন ও ফিন্যান্স ম্যানেজার আকলিমা আক্তার তমা বলেন, সদর হাসপাতাল থেকে রোগীকে আনা হয়েছিল। সিজার করার পর তার অবস্থা খারাপ হলে ফরিদপুরে পাঠানো হয়। সেখানে তার মৃত্যু ঘটে।

ক্লিনিকের ম্যানেজার আমজাদ হোসেন জানান, রোগীর মৃত্যুর পর পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। তবে কত টাকা লেনদেন হয়েছে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. মাসুদ বলেন, আমরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। শুনেছি আগেও ওই ক্লিনিকে এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু লিখিত অভিযোগ না থাকায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, এর আগেও রতন ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর একাধিক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। প্রতিবারই আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো ধামাচাপা পড়ে যায়।