ঢাকা ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফরিদপুরে-৪ আসনের নিজেকে জোটের একক প্রার্থী দাবি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রার্থীর বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না শহীদ জিয়ার আদর্শ জনগণের সেবা করা : – শামা ওবায়েদ জাতীয়তাবাদী দল সকল ধর্ম দল মতকে ধারণ করতে পারে প্রটেকশন দিতে পারে : শামা ওবায়েদ ফরিদপুরে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মেয়র প্রার্থী কে এম নাজমুলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল সালথায় এন সি পি-র মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ: ফরিদপুরে ‌‌ চৌধুরী ‌ কামাল ইউসুফ ‌ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগ ‌ ‌‌ আলোচনা সভা ‌ও‌ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে আজকের সারাদেশ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্বোধন  চট্টগ্রাম সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের ১০ বছর পূর্তি বর্ষ উদযাপন ফমেক হাসপাতালে কর্মবিরতিতে টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা, ভোগান্তিতে রোগীরা বৈষম্য নয়, বাস্তবায়নের দাবি এমপিওভূক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের

পরকীয়াই প্রতারনার শিকার হয়ে গৃহবধুর আত্মহত্যা !

মেহেদী হাসান পাংশা প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার, পাংশা পৌর শহরের ৮ নং ওয়াডের মৈশালা (পালপাড়া) গ্রামের দীপা রানী পাল(২২) স্বামী সংশার ছেড়ে রাতের অন্ধকারে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে ঘর ছেড়ে চলে যায়। সর্বস্ব হাড়িয়ে ভোর রাতে বাড়ি ফিরে আত্মহত্যা করে সে।
আজ (১২ জুন) সকাল আটটার দিকে নিজ বসত ঘরের সিলিং ফ‍্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে ঐ গৃহবধু।
সিঙ্গাপুর প্রবাসী মিঠুন পালের সাথে ছয় বছর আগে বিয়ে হয় দীপা রানী পালের। বতর্মানে স্বামী মিঠুন পাল সিঙ্গাপুর থেকে বাড়িতে ফিরে ব‍্যাবসা করছেন। তাদের ঘরে পাঁচ বছর বয়সী যমজ দুইটি পুত্র সন্তান রয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে দীপা কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। মান সম্মানের ভয়ে থানা পুলিশ না করে এলাকার বিভিন্ন জায়গা খোঁজা খুঁজি করতে থাকেন পরিবারের লোকজন। সারা রাত খোজার পরেও কোনো খোজ পাওয়া যায়নি দীপার।
পরের দিন বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ভোর পাঁচটার দিকে পাশের মৈত্রডাঙ্গী গ্রামের সাহাই, সালাম ও মাসুদ নামে তিন যুবক তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেন বলে জানান
নিহতের শাশুড়ি সাধনা রানী পাল। তিনি বলেন, বুধবার (১১ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার দিকে বৌমা কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। সারারাত খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরদিন (১২ জুন) সকাল ৫টার দিকে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেয় মৈত্রডাঙ্গী গ্রামের জব্বার মন্ডলের ছেলে সাহাই, ইমারতের ছেলে সালাম ও চাঁদ আলীর ছেলে মাসুদ। বাড়ি ফেরার সময় তার কাছে থাকা কানের দুল, হাতের শাঁখা ও সিঁথিতে সিঁদুর এসব কিছুই ছিলো না তার কাছে । শ্বশুরী সাধনা পাল আরও জানান, ঘরে থাকা নগদ ১৪ হাজার টাকাও নিয়ে যায় দীপা। বাড়ি ফেরার পর তার সাথে আমাদের স্বাভাবিক কিছু কথাবার্তা হয়। রাতে কোথায় ছিলে জানতে চাইলে কোনো উত্তর না দিয়ে নিজের থাকার ঘরে চলে যায়। তারপর কোন একসময় গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে দীপা।
স্বামী মিঠুন পাল অভিযোগ করেন, দীপা ‘সাগর খান’ নামের একটি ফেসবুক আইডির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করত। ধারণা করা হচ্ছে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তিনি বলেন, “ওই ব্যক্তির ডাকে সাড়া দিয়েই দীপা রাতে বাড়ি থেকে বের হয়। সকালে ফিরে এসে মোবাইলে একজনের সঙ্গে কথাও বলে। রাতে ওর সাথে হয়তো খারাপ কিছু হয়েছে। আর সেকারণেই সে আত্মহত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবী করছি।”
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, তাদের পরিবারে কোন ঝামেলা ছিলো না। অন্য পুরুষের সাথে মোবাইলে কথা বলা ও পরকীয়া সম্পর্কের কারণেই এমনটি হতে পারে বলে এলাকাবাসির ধারনা।
এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, “খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করা হয়েছে । প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নিহতের পিতা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার এজাহার দিয়েছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০২:০৯:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫
৩১৫ বার পড়া হয়েছে

পরকীয়াই প্রতারনার শিকার হয়ে গৃহবধুর আত্মহত্যা !

আপডেট সময় ০২:০৯:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার, পাংশা পৌর শহরের ৮ নং ওয়াডের মৈশালা (পালপাড়া) গ্রামের দীপা রানী পাল(২২) স্বামী সংশার ছেড়ে রাতের অন্ধকারে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে ঘর ছেড়ে চলে যায়। সর্বস্ব হাড়িয়ে ভোর রাতে বাড়ি ফিরে আত্মহত্যা করে সে।
আজ (১২ জুন) সকাল আটটার দিকে নিজ বসত ঘরের সিলিং ফ‍্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে ঐ গৃহবধু।
সিঙ্গাপুর প্রবাসী মিঠুন পালের সাথে ছয় বছর আগে বিয়ে হয় দীপা রানী পালের। বতর্মানে স্বামী মিঠুন পাল সিঙ্গাপুর থেকে বাড়িতে ফিরে ব‍্যাবসা করছেন। তাদের ঘরে পাঁচ বছর বয়সী যমজ দুইটি পুত্র সন্তান রয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে দীপা কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। মান সম্মানের ভয়ে থানা পুলিশ না করে এলাকার বিভিন্ন জায়গা খোঁজা খুঁজি করতে থাকেন পরিবারের লোকজন। সারা রাত খোজার পরেও কোনো খোজ পাওয়া যায়নি দীপার।
পরের দিন বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ভোর পাঁচটার দিকে পাশের মৈত্রডাঙ্গী গ্রামের সাহাই, সালাম ও মাসুদ নামে তিন যুবক তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেন বলে জানান
নিহতের শাশুড়ি সাধনা রানী পাল। তিনি বলেন, বুধবার (১১ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার দিকে বৌমা কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। সারারাত খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরদিন (১২ জুন) সকাল ৫টার দিকে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেয় মৈত্রডাঙ্গী গ্রামের জব্বার মন্ডলের ছেলে সাহাই, ইমারতের ছেলে সালাম ও চাঁদ আলীর ছেলে মাসুদ। বাড়ি ফেরার সময় তার কাছে থাকা কানের দুল, হাতের শাঁখা ও সিঁথিতে সিঁদুর এসব কিছুই ছিলো না তার কাছে । শ্বশুরী সাধনা পাল আরও জানান, ঘরে থাকা নগদ ১৪ হাজার টাকাও নিয়ে যায় দীপা। বাড়ি ফেরার পর তার সাথে আমাদের স্বাভাবিক কিছু কথাবার্তা হয়। রাতে কোথায় ছিলে জানতে চাইলে কোনো উত্তর না দিয়ে নিজের থাকার ঘরে চলে যায়। তারপর কোন একসময় গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে দীপা।
স্বামী মিঠুন পাল অভিযোগ করেন, দীপা ‘সাগর খান’ নামের একটি ফেসবুক আইডির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করত। ধারণা করা হচ্ছে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তিনি বলেন, “ওই ব্যক্তির ডাকে সাড়া দিয়েই দীপা রাতে বাড়ি থেকে বের হয়। সকালে ফিরে এসে মোবাইলে একজনের সঙ্গে কথাও বলে। রাতে ওর সাথে হয়তো খারাপ কিছু হয়েছে। আর সেকারণেই সে আত্মহত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবী করছি।”
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, তাদের পরিবারে কোন ঝামেলা ছিলো না। অন্য পুরুষের সাথে মোবাইলে কথা বলা ও পরকীয়া সম্পর্কের কারণেই এমনটি হতে পারে বলে এলাকাবাসির ধারনা।
এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, “খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করা হয়েছে । প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নিহতের পিতা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার এজাহার দিয়েছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।