ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফরিদপুরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফন্টের মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নগরকান্দায় নিখোঁজের একদিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার সালথায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পাংশায় বিএনপির অফিস ভাংচুর, মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কর্মীদের উপর হামলা  সালথায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে কুমার নদে বালু উত্তোলন  স্মৃতির গ্রামে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে ঈদ উৎসবে মাতলো নগরকান্দার জুঙ্গুরদিয়া গ্রামবাসী কমিটি নিয়ে দ্বন্ধ: ফরিদপুরে ডেকোরেটর মিস্ত্রি কল্যাণ সংস্থার সভাপতিকে কুপিয়ে জখম ফরিদপুরে তরমুজ ক্রয়- বিক্রয়কে কেন্দ্র করে একজনকে কুপিয়ে জখম  টাকা লুট করে প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা প্রাইভেট কারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

ফরিদপুরে পল্লীকবি জসিম উদদীনের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নিজেস্ব প্রতিনিধি:

 

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরে পল্লীকবি জসিম উদদীন এর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে পল্লী কবির মাজারে ফুলের শ্রদ্ধা জানান ফরিদপুরের জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, জসিম ফাউন্ডেশন, ফরিদপুর প্রেসক্লাব সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক গঠন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর পল্লী কবির আত্নার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং জেলা প্রশাসন ও জসিম ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কবির বাড়ির আঙ্গিনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট মিন্টু বিশ্বাস এর সভাপতিত্বে এসভায় ‌ বক্তব্য রাখেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল হাসান মোল্যা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল জলিল, কবিপুত্র খুরশিদ আনোয়ার প্রমুখ। কবি কে স্মরণীয় করে ধরে রাখতে তার গল্প, কবিতা, উপন্যাস চর্চার তাগিদ দেন বক্তরা। পল্লী কবি জসীমউদ্দীন ১৯০৩ সালের পহেলা জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৬ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্য তার লেখনীর মধ্য দিয়ে নগর সভায় নিয়ে আসেন। কবর কবিতাসহ নকশী কাঁথার মাঠ, সুজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতিময় কবিতার অন্যতম নিদর্শন
উল্লেখ্য : পল্লী কবি জসিম উদ্দীন বাংলার লোকায়ত সংস্কৃতির বাস্তব প্রতিচ্ছবি তার কবিতার মাধ্যমে ‍আরও জীবন্ত ও সাবলিলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। বাংলা সাহিত্যের ’পল্লীকবি’ হিসেবে খ্যাত জসীম উদ্দীন । ফরিদপুর জেলার গোবিন্দপুর স্কুলের শিক্ষক আনসার উদ্দিন মোল্লার ও আমিনা খাতুনের পাঁচ সন্তানের মধ্যে জসীম উদ্দীন ছিলেন চতুর্থ । জসীম উদ্দীন তাঁর লেখনিতে পল্লির মাটি ও মানুষের অস্বিত্বকে একাকার করে তুলে ধরেছেন । তিনি রবীন্দ্রযুগের কবি হয়েও তাঁর কাব্য সাহিত্যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য সার্থকভাবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । পল্লী কবি জসীম উদ্দীন জন্মগ্রহণ করেন – ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে ( পৈতৃক নিবাস ফরিদপুরের গোবিন্দপুর গ্রামে ) । তার পুরো নাম ছিল মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন মোল্লা । (ছদ্মনাম: তুজম্বর  আলী) ।  জসীম উদ্দীনের শিক্ষাজীবন – ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে এসএসসি (১৯২১), রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি (১৯২৪) ও বি. এ (১৯২৯) এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম. এ (১৯৩১ সালে)। পল্লী কবি জসিম উদ্দীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় দীনেশচন্দ্র সেনের অধীনে রামতুন লাহিড়ী গবেষণা সহকারী হিসেবে যোগদান করেন পরবর্তীতে ১৯৩৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং পূর্বপাকিস্তান সরকারের প্রচার বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন (১৯৬২ সালে) । কবি জসীম উদ্দীনের বৈবাহিক জীবন – ১৯৪৩ সালে মহসীন উদ্দীনের মেয়ে মমতাজকে বিবাহ করেন (ডাকনাম মণিমালা) । পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম – মিলন গান (১৯২১, মোসলেম ভারত) ।  তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পল্লীগীতি সংগ্রাহক পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন – ড. দীনেশচন্দ্র সেনের অধীনে ।  জসীম উদ্দীনের সর্বাধিক বিখ্যাত কবিতার নাম – ‘কবর’ কবিতা (১৯২৫ সালে ’কল্লোল’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়) । তাঁর কবি প্রতিভার বিকাশ ঘটে – ছাত্র জীবনেই । জসীম উদ্দীন একাদশ শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীন লিখিত তাঁর যে কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়‘কবর’ কবিতাটি । কবর’ কবিতাটি ‘রাখালী’ কাব্যের অন্তর্গত । জসীম উদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ – ‘রাখালী’ (’কল্লোল’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে) । রাখালী’ কাব্যে মোট কবিতার সংখ্যা – ১৯টি (যেমন: রাখালী, কিশোরী, রাখাল ছেলে, কবর, পল্লীজননী, পাহাড়িয়া, গহীন গাঙের নাইয়া প্রভৃতি) ।  কবি জসীম উদ্দীন ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেছিলেন লেখকের অন্যতম সহযোগী ড. দীনেশ চন্দ্র সেনকে ।  জসীম উদ্দীনের দ্বিতীয় কাব্যের নাম – নকশি কাঁথার মাঠ (১৯২৯) । নকশী কাঁথার মাঠ’ জসীম উদ্দীনের যে শ্রেণির কাব্য – কাহিনি কাব্য (বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়) । ”দূরাগত রাথালের বংশী ধ্বনীর মতো তোমার কবিতা পড়ে আমি কেঁদেছি” জসীম উদ্দীনের ’কবর’ কবিতা সম্পর্কে উক্তিটি করেছেন – ড. দীনেশ চন্দ্র সেন ।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৩:২০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫
৮৩ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরে পল্লীকবি জসিম উদদীনের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

আপডেট সময় ০৩:২০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫

 

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরে পল্লীকবি জসিম উদদীন এর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে পল্লী কবির মাজারে ফুলের শ্রদ্ধা জানান ফরিদপুরের জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, জসিম ফাউন্ডেশন, ফরিদপুর প্রেসক্লাব সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক গঠন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর পল্লী কবির আত্নার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং জেলা প্রশাসন ও জসিম ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কবির বাড়ির আঙ্গিনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট মিন্টু বিশ্বাস এর সভাপতিত্বে এসভায় ‌ বক্তব্য রাখেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল হাসান মোল্যা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল জলিল, কবিপুত্র খুরশিদ আনোয়ার প্রমুখ। কবি কে স্মরণীয় করে ধরে রাখতে তার গল্প, কবিতা, উপন্যাস চর্চার তাগিদ দেন বক্তরা। পল্লী কবি জসীমউদ্দীন ১৯০৩ সালের পহেলা জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৬ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্য তার লেখনীর মধ্য দিয়ে নগর সভায় নিয়ে আসেন। কবর কবিতাসহ নকশী কাঁথার মাঠ, সুজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতিময় কবিতার অন্যতম নিদর্শন
উল্লেখ্য : পল্লী কবি জসিম উদ্দীন বাংলার লোকায়ত সংস্কৃতির বাস্তব প্রতিচ্ছবি তার কবিতার মাধ্যমে ‍আরও জীবন্ত ও সাবলিলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। বাংলা সাহিত্যের ’পল্লীকবি’ হিসেবে খ্যাত জসীম উদ্দীন । ফরিদপুর জেলার গোবিন্দপুর স্কুলের শিক্ষক আনসার উদ্দিন মোল্লার ও আমিনা খাতুনের পাঁচ সন্তানের মধ্যে জসীম উদ্দীন ছিলেন চতুর্থ । জসীম উদ্দীন তাঁর লেখনিতে পল্লির মাটি ও মানুষের অস্বিত্বকে একাকার করে তুলে ধরেছেন । তিনি রবীন্দ্রযুগের কবি হয়েও তাঁর কাব্য সাহিত্যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য সার্থকভাবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । পল্লী কবি জসীম উদ্দীন জন্মগ্রহণ করেন – ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে ( পৈতৃক নিবাস ফরিদপুরের গোবিন্দপুর গ্রামে ) । তার পুরো নাম ছিল মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন মোল্লা । (ছদ্মনাম: তুজম্বর  আলী) ।  জসীম উদ্দীনের শিক্ষাজীবন – ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে এসএসসি (১৯২১), রাজেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি (১৯২৪) ও বি. এ (১৯২৯) এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম. এ (১৯৩১ সালে)। পল্লী কবি জসিম উদ্দীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় দীনেশচন্দ্র সেনের অধীনে রামতুন লাহিড়ী গবেষণা সহকারী হিসেবে যোগদান করেন পরবর্তীতে ১৯৩৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং পূর্বপাকিস্তান সরকারের প্রচার বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন (১৯৬২ সালে) । কবি জসীম উদ্দীনের বৈবাহিক জীবন – ১৯৪৩ সালে মহসীন উদ্দীনের মেয়ে মমতাজকে বিবাহ করেন (ডাকনাম মণিমালা) । পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম – মিলন গান (১৯২১, মোসলেম ভারত) ।  তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পল্লীগীতি সংগ্রাহক পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন – ড. দীনেশচন্দ্র সেনের অধীনে ।  জসীম উদ্দীনের সর্বাধিক বিখ্যাত কবিতার নাম – ‘কবর’ কবিতা (১৯২৫ সালে ’কল্লোল’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়) । তাঁর কবি প্রতিভার বিকাশ ঘটে – ছাত্র জীবনেই । জসীম উদ্দীন একাদশ শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীন লিখিত তাঁর যে কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়‘কবর’ কবিতাটি । কবর’ কবিতাটি ‘রাখালী’ কাব্যের অন্তর্গত । জসীম উদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ – ‘রাখালী’ (’কল্লোল’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে) । রাখালী’ কাব্যে মোট কবিতার সংখ্যা – ১৯টি (যেমন: রাখালী, কিশোরী, রাখাল ছেলে, কবর, পল্লীজননী, পাহাড়িয়া, গহীন গাঙের নাইয়া প্রভৃতি) ।  কবি জসীম উদ্দীন ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেছিলেন লেখকের অন্যতম সহযোগী ড. দীনেশ চন্দ্র সেনকে ।  জসীম উদ্দীনের দ্বিতীয় কাব্যের নাম – নকশি কাঁথার মাঠ (১৯২৯) । নকশী কাঁথার মাঠ’ জসীম উদ্দীনের যে শ্রেণির কাব্য – কাহিনি কাব্য (বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়) । ”দূরাগত রাথালের বংশী ধ্বনীর মতো তোমার কবিতা পড়ে আমি কেঁদেছি” জসীম উদ্দীনের ’কবর’ কবিতা সম্পর্কে উক্তিটি করেছেন – ড. দীনেশ চন্দ্র সেন ।