ফরিদপুরে তথ্য অধিকার আইনের প্রচারনায় ভ্রাম্যমান পরামর্শ ডেস্ক
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুর সদর উপজেলা ভূমি অফিসে একটি ভ্রাম্যমান তথ্য ও পরামর্শ ডেস্ক কাজ করেছে। ভূমি অফিস কর্তৃপক্ষ এবং সেবাগ্রহিতারা এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান। রবিবার বেলা ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত পরামর্শ ডেস্ক থেকে শতাধীক মানুষকে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর উদ্যোগে গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ফরিদপুরের ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সার্পোট (ইয়েস) গ্রুপ উপজেলা ভূমি অফিসে আগত বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মাঝে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। টিআইবি‘র পক্ষ থেকে আইনটির উপর প্রকাশিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। এসময় কিভাবে তথ্য অধিকার ফরম পুরণ করতে হয় তা ভূমি অফিসে আগত সেবা নিতে আসা আগ্রহী জনগণকে হাতে কলমে শেখানো হয়।
সেবাগ্রহীতাদের কয়েকজন জানান, ভূমি বিষয়ে বেশিরভাগ মানুষের ধারণা কম। ফলে এই সেক্টরে অনেক মধ্যস্বত্বভোগী মানুষকে প্রতারিত করে। আবার ভূমি সেবার ক্ষেত্রে অনলাইন ট্যাক্স প্রদান ও অন্যান্য সেবা পাওয়া যায়, কিন্তু অনেক মানুষ অনলাইনে সিস্টেমের ব্যবহার না জানার কারণে তারা মধ্যস্বত্বভোগীদের সহায়তা নেন। ফলে সময় ও টাকা দুটোই বেশি খরচ হয়। আবার অনেকের ডাকনামে জমির রেজিস্ট্রি হয়েছে , আবার এনআইডিতে আরেক নাম আছে। এরকম ননাবিধ সমস্যয় পড়ে মানুষ আসেন ভূমি অফিসে।
যেখানে ইয়েস ও সনাক সদস্যগণ তাৎক্ষণিকভাবে সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেন এবং অনেকে তাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতা জনসাধারণ নিজে তথ্য পূরণ করতে পারেন না, ফলে তারা বিভিন্ন মাধ্যমে ট্যাক্স প্রদান, মিউটেশনের আবেদন করে থাকেন। ফলে সরকার নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত টাকা খরচ হয় বা ভুল হয়। এ বিষয়ে অধিক প্রচার করা হলে দালাল বা মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম অনেকাংশে কমতে পারে।
ভ্রাম্যমান তথ্য ও পরামর্শ ডেস্ক পরিচালনায় সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন টিআইবি‘র এরিয়া কো অর্ডিনেটর গোলাম মোস্তফা এবং সনাক সদস্য রাসেল মিয়া, মাহবুবুর রহমান, ইয়েস সদস্য মাহিদুল ইসলাম, স্বর্ণা কর্মকার, ইন্টার্ন শান্ত ইসলাম ও আম্বিয়া হক আনমি।