ফরিদপুরে ভেজাল তেলে তৈরি হচ্ছে জিলাপি, হোটেল-রেস্তেরায় মিলছে পঁচা-বাসি খাবার
রমজান মাস উপলক্ষে ফরিদপুরে প্রতিটি হোটেল-রেস্তেরার বাইরে সামনের অংশে পসরা সাজিয়ে ইফতার সামগ্রী হিসেবে সারি সারি করে রাখা হয়েছে লোভনীয় ইফতার সামগ্রী। এসব জিলাপিতে ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে কি-না তা সাধারন মানুষের অজানা। কিন্তু বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের অভিযানে মিলছে ক্ষতিকর উপাদান।
ভেজাল তেলে তৈরি হচ্ছে ইফতার সামগ্রী হিসেবে পরিচিত এসব শাহী জিলাপি।
এছাড়া অভিযানকালে অধিকাংশ হোটেল-রেস্তেরা বা মিষ্টান্ন দোকানে মিলছে পঁচা-বাসি খাবার বা খাদ্য উপাদান সামগ্রী। রমজান মাস জুড়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের এমন অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় নিরাপদ খাদ্য কার্যালয়ের উদ্যোগে শহরের নিউমার্কেট সংলগ্ন দুটি রেস্তেরা, মিষ্টিপট্টি এলাকায় পরিচালিত অভিযানে এসব চিত্র ফুটে ওঠে।
এতে নেতৃত্ব দেন জেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আসিফ এলাহি। এ সময় খাদ্য নিরাপদ আইনে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয় এবং বাকিদের সতর্ক করা হয়।
অভিযানের সময় শহরের নিউমার্কেট সংলগ্ন সুলতানি ভোজ নামক হোটেলের ফ্রিজে মিলে পঁচা খাদ্য সামগ্রী। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়। একই নামে রেস্তেরায় অভিযানকালে ভেজাল তেলে শাহী জিলাপি তৈরি করা হচ্ছে তাৎক্ষণিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়। এমন অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেন আদালত। এছাড়া ময়রাপট্টি এলাকায় একাধিক মিষ্টান্ন দোকানে দেখা মিলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এ সময় দুটি মিষ্টান্ন ভান্ডারের বিরুদ্ধে মামলাসহ জব্দকৃত তেল ফেলে দেয়া হয়।
এর আগে গত ১২ মার্চ শহরের খন্দকার হোটেল, নিউ স্টার কাবাব, খলিলের মিষ্টির দোকানে অভিযানে পচা-বাসি খাদ্য সামগ্রী মিলে এবং ৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। অভিযানকালে খন্দকার হোটেল থেকে পঁচা মাংস ও বাসি শরবত জব্দ করা হয়।
এসব বিষয়ে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আজমুল ফুয়াদ রিয়াদ জানান, মানুষের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে রমজান মাসে নিয়মিত মনিটরিং এর অংশ হিসেবে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। আজ তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা নেয়া হবে এবং বাকি দুটিকে সতর্কতামূলক নোটিশ করা হয়েছে। তাদের মুচলেকা দিয়ে অঙ্গীকার করতে হবে।