ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফরিদপুরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফন্টের মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নগরকান্দায় নিখোঁজের একদিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার সালথায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পাংশায় বিএনপির অফিস ভাংচুর, মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কর্মীদের উপর হামলা  সালথায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে কুমার নদে বালু উত্তোলন  স্মৃতির গ্রামে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে ঈদ উৎসবে মাতলো নগরকান্দার জুঙ্গুরদিয়া গ্রামবাসী কমিটি নিয়ে দ্বন্ধ: ফরিদপুরে ডেকোরেটর মিস্ত্রি কল্যাণ সংস্থার সভাপতিকে কুপিয়ে জখম ফরিদপুরে তরমুজ ক্রয়- বিক্রয়কে কেন্দ্র করে একজনকে কুপিয়ে জখম  টাকা লুট করে প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা প্রাইভেট কারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

ফরিদপুরে এতিমের টাকাসহ কোটি টাকা আত্মসাৎ, সাবেক সমাজসেবা কর্মকর্তার নামে দুদকের তিন মামলা

শ্রাবণ হাসান

 

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার সাবেক সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে এতিমের বরাদ্দকৃত টাকা, বিভিন্ন ভাতা ও ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিনটি মামলা করেছেন জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ দুপুরে ফরিদপুর বিজ্ঞ সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে মামলাগুলো করেন দুদকের জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. ইমরান আকন। সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপ-পরিচালক রতন কুমার।

আবুল কালাম আজাদ বর্তমানে কক্সবাজার সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রবেশন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউ খালি ইউনিয়নে দশহাজার গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া তিনি ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নগরকান্দায় কর্মরত ছিলেন।

মামলার এজাহারগুলোতে বলা হয়- অবহেলা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন সাবেক এই কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ৫(২) ধারা শাস্তিযোগ্য অপরাধ প্রমানিত হয়েছে।

একটি মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নগরকান্দা উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন  ২০২২-২৩ অর্থ বছরের এতিমদের বরাদ্দকৃত সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা ২০২৩ সালের ২০ মার্চ অবৈধভাবে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন এবং ঘুষ দাবি পূর্বক শাস্তিযোগ্য অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।

অপর মামলার এজাহারে বলা হয়, নগরকান্দা উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার জন্য ২০২০-২১ অর্থবছর সহ বিভিন্ন সময় অবিতরনকৃত বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার ৫৮ লক্ষ ৮৭ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন পূর্বক বিতরণ না করে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে আত্মসাৎ করেন।

অপর আরেকটি মামলায় উল্লেখ করা হয়, ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি তহবিল থেকে ২০১৮ হতে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৩৬ লক্ষ ৩৫ হাজার ৬০০ টাকা উত্তোলন-পূর্বক নিজ কাজে ব্যবহার করেছেন।

জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন সম্মানিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রতন কুমার আজকের পত্রিকাকে বলেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ আসে। এর প্রেক্ষিতে জেলা কার্যালয় অনুসন্ধান করেন এবং সত্যতা বেরিয়ে আসে। তিনি মোট ১ কোটি ৭ লক্ষ ৭৩ হাজার ৩৫০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এসব অভিযোগে ফরিদপুর বিজ্ঞ সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে পৃথকভাবে তিনটি মামলা করা হয়েছে।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, তৎকালীন আমার অফিসের সরকারি কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের সাথে আমার বিরোধ হয়। এই বিরোধের জেরে আমার নামে দুদুকে মিথ্যা অভিযোগ করেন। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় মামলা হলে তদন্তে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। মূলত এতিমরা না থাকায় টাকাগুলো দেওয়া হয়নি, বর্তমানে এই টাকাগুলো ব্যাংকে রয়েছে। এছাড়া আমার জমি বিক্রিসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোনের টাকা ব্যাংকে লেনদেন হয়, এ কারণে দুদক সন্দেহ করেছেন।

 

 

 

 

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১০:৩২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫
২৯৯ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরে এতিমের টাকাসহ কোটি টাকা আত্মসাৎ, সাবেক সমাজসেবা কর্মকর্তার নামে দুদকের তিন মামলা

আপডেট সময় ১০:৩২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫

 

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার সাবেক সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে এতিমের বরাদ্দকৃত টাকা, বিভিন্ন ভাতা ও ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিনটি মামলা করেছেন জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ দুপুরে ফরিদপুর বিজ্ঞ সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে মামলাগুলো করেন দুদকের জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. ইমরান আকন। সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপ-পরিচালক রতন কুমার।

আবুল কালাম আজাদ বর্তমানে কক্সবাজার সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রবেশন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউ খালি ইউনিয়নে দশহাজার গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া তিনি ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নগরকান্দায় কর্মরত ছিলেন।

মামলার এজাহারগুলোতে বলা হয়- অবহেলা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন সাবেক এই কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ৫(২) ধারা শাস্তিযোগ্য অপরাধ প্রমানিত হয়েছে।

একটি মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নগরকান্দা উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন  ২০২২-২৩ অর্থ বছরের এতিমদের বরাদ্দকৃত সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা ২০২৩ সালের ২০ মার্চ অবৈধভাবে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন এবং ঘুষ দাবি পূর্বক শাস্তিযোগ্য অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।

অপর মামলার এজাহারে বলা হয়, নগরকান্দা উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার জন্য ২০২০-২১ অর্থবছর সহ বিভিন্ন সময় অবিতরনকৃত বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার ৫৮ লক্ষ ৮৭ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন পূর্বক বিতরণ না করে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে আত্মসাৎ করেন।

অপর আরেকটি মামলায় উল্লেখ করা হয়, ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি তহবিল থেকে ২০১৮ হতে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৩৬ লক্ষ ৩৫ হাজার ৬০০ টাকা উত্তোলন-পূর্বক নিজ কাজে ব্যবহার করেছেন।

জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন সম্মানিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রতন কুমার আজকের পত্রিকাকে বলেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ আসে। এর প্রেক্ষিতে জেলা কার্যালয় অনুসন্ধান করেন এবং সত্যতা বেরিয়ে আসে। তিনি মোট ১ কোটি ৭ লক্ষ ৭৩ হাজার ৩৫০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এসব অভিযোগে ফরিদপুর বিজ্ঞ সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে পৃথকভাবে তিনটি মামলা করা হয়েছে।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, তৎকালীন আমার অফিসের সরকারি কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের সাথে আমার বিরোধ হয়। এই বিরোধের জেরে আমার নামে দুদুকে মিথ্যা অভিযোগ করেন। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় মামলা হলে তদন্তে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। মূলত এতিমরা না থাকায় টাকাগুলো দেওয়া হয়নি, বর্তমানে এই টাকাগুলো ব্যাংকে রয়েছে। এছাড়া আমার জমি বিক্রিসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোনের টাকা ব্যাংকে লেনদেন হয়, এ কারণে দুদক সন্দেহ করেছেন।