কারাবন্দি থাকা অবস্থায় খালেদা জিয়াকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল: বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদ
বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি থাকা অবস্থায় বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিলো বলে জানিয়েছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, আমাদের ১৭ বছরের যেই যুদ্ধ, যেই কষ্ট, যে অনাচার, যেই ত্যাগ, যেই তিতিক্ষা, সেখানে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন আমাদের গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়া। উনাকে অন্যায়ভাবে ছয়টি বছর মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিলো। বন্দি অবস্থায় উনাকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিলো বলেও আমরা শুনতে পেয়েছিলাম। উনাকে বলা হয়েছিলো যে- আপনি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চান তাহলে আপনাকে জামিন দেওয়া হবে। তারপরেও উনি স্বৈরাচারের কাছে মাথানত করেন নাই। বাংলাদেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, স্বাধীনতার জন্য, সার্বভৌমত্বের জন্য সবচেয়ে বড় স্যাক্রিফাইসটা করেছেন খালেদা জিয়া।
আজ রোববার বিকেলে শহরের অম্বিকা ময়দানে ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিল পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামা ওবায়েদ এসব কথা বলেন।
স্বৈরাচার পতনের পর এখনও ভোটারধিকার না পেয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে বড় ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এখনও আমরা ভোটাধিকার পাই নাই। আমাদের অনেক ভাই-বন্ধু এখনো একটা ব্যালট পেপার বাক্সে ভরে দেখতে পারে নাই। শেখ হাসিনা নির্বাচনকে একটা তামাশায় পরিণত করেছে। সেই ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সর্বাত্মক যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, হাসিনা চলে গেছে কিন্তু ভাইয়েরা ষড়যন্ত্র যায় নাই। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো যে, গত ১৫ বছর যারা আমাদের মাঝে ছিলোনা, যাদের কখনো কোন আন্দোলন-সংগ্রামে দেখি নাই, তাদের ঘাড়ের উপরে সওয়ার হয়ে আওয়ামী লীগ ফিরে আসতে চাচ্ছে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েলের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ঈসা, যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশ, ফজলুল হক টুলু ও আজম খান, ড্যাবের জেলা শাখার সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান শামীম, জেলা যুবদলের সভাপতি মো: রাজিব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো: জাহাঙ্গীর হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন মিঠু, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল ইসলাম রুমান প্রমুখ।
এসময় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এএফএম কাইয়ুম জঙ্গি সহ বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু কামনা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়।