ঢাকা ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফরিদপুরে গোলাবারুদসহ লাইসেন্সকৃত সকল আগ্নেয়াস্ত্র জমার নির্দেশ ফরিদপুরে-৪ আসনের নিজেকে জোটের একক প্রার্থী দাবি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রার্থীর বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না শহীদ জিয়ার আদর্শ জনগণের সেবা করা : – শামা ওবায়েদ জাতীয়তাবাদী দল সকল ধর্ম দল মতকে ধারণ করতে পারে প্রটেকশন দিতে পারে : শামা ওবায়েদ ফরিদপুরে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মেয়র প্রার্থী কে এম নাজমুলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল সালথায় এন সি পি-র মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ: ফরিদপুরে ‌‌ চৌধুরী ‌ কামাল ইউসুফ ‌ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগ ‌ ‌‌ আলোচনা সভা ‌ও‌ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে আজকের সারাদেশ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্বোধন  চট্টগ্রাম সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের ১০ বছর পূর্তি বর্ষ উদযাপন ফমেক হাসপাতালে কর্মবিরতিতে টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা, ভোগান্তিতে রোগীরা

সালথায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে কুমার নদে বালু উত্তোলন 

মনির মোল্যা সালথা: 
ফরিদপুরের সালথায় প্রশাসন অভিযান চালানোর পরেও কুমার নদে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে রাত-দিন ২৪ ঘন্টা চলছে বালু উত্তোলন। উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রসুলপুর বাজারের পাশে কুমার নদ থেকে এই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে নদের দুই পাড়ে থাকা কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা সড়ক চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। যেকোনো সময় সড়ক ভেঙে নদে পড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার রসুলপুর বাজারের পাশে কুমার নদের মাঝে একটি ডাবল ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন মাহমুদ নামে চিহ্নিত এক বালু ব্যবসায়ী। তিনি রসুলপুর-সালথা সড়ক ও রসুলপুর-মাদরাসা গট্টি সড়ক ছিদ্র করে পাইপ বসিয়েছেন। এতে সড়ক দুটিতে ফাটল ধরেছে।
অপরদিকে বালু উত্তোলনের ফলে নদের দুই পাড় ভেঙে পানি ধুয়ে যাচ্ছে। পাশেই বড়দিয়া বাজার এলাকায় কুমার নদের মাঝে আরো দুটি ড্রেজার মেশিন বসানো দেখা যায়। যদিও মেশিন দুটি বন্ধ ছিল। তবে ওই দুটি মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে নদে পাড় ভেঙে রয়েছে।
স্থানীয় রবিউল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আগে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে মাহমুদের ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ভেঙে দেয়। কিন্তু অভিযানের পরেও আবার দেখতেছি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেছে। এতে নদের পাড় ভেঙে যাচ্ছে। এমনটি রসুলপুর বাজার সেতুও ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ ড্রেজারটি সেতুর পাশেই বসানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মাহমুদ প্রায় একযুগ ধরে আমাদের এলাকার ফসলি জমি ও কুমার নদ ধ্বংস করে বালু-মাটির ব্যবসা করে আসছে। অথচ তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
ড্রেজার মালিক মাহমুদ বলেন, কয়েকদিন আগে আমার ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ভেঙে দিয়েছিল প্রশাসন। এতে আমার অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাই উপর মহলকে ম্যানেজ করে পুনরায় বালু উত্তোলন শুরু করেছি। অভিযানে আমার যে টাকার ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ হলে ড্রেজার মেশিন উঠিয়ে ফেলবো।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বালী বলেন, মাহমুদের ড্রেজার কয়েকদিন আগে ভাঙা হয়েছে। সে যদি আবারও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে থাকে, তাহলে আবারও অভিযান চালানো হবে।
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৭:২৯:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
১২৪ বার পড়া হয়েছে

সালথায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে কুমার নদে বালু উত্তোলন 

আপডেট সময় ০৭:২৯:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
ফরিদপুরের সালথায় প্রশাসন অভিযান চালানোর পরেও কুমার নদে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে রাত-দিন ২৪ ঘন্টা চলছে বালু উত্তোলন। উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রসুলপুর বাজারের পাশে কুমার নদ থেকে এই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে নদের দুই পাড়ে থাকা কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা সড়ক চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। যেকোনো সময় সড়ক ভেঙে নদে পড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার রসুলপুর বাজারের পাশে কুমার নদের মাঝে একটি ডাবল ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন মাহমুদ নামে চিহ্নিত এক বালু ব্যবসায়ী। তিনি রসুলপুর-সালথা সড়ক ও রসুলপুর-মাদরাসা গট্টি সড়ক ছিদ্র করে পাইপ বসিয়েছেন। এতে সড়ক দুটিতে ফাটল ধরেছে।
অপরদিকে বালু উত্তোলনের ফলে নদের দুই পাড় ভেঙে পানি ধুয়ে যাচ্ছে। পাশেই বড়দিয়া বাজার এলাকায় কুমার নদের মাঝে আরো দুটি ড্রেজার মেশিন বসানো দেখা যায়। যদিও মেশিন দুটি বন্ধ ছিল। তবে ওই দুটি মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে নদে পাড় ভেঙে রয়েছে।
স্থানীয় রবিউল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আগে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে মাহমুদের ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ভেঙে দেয়। কিন্তু অভিযানের পরেও আবার দেখতেছি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেছে। এতে নদের পাড় ভেঙে যাচ্ছে। এমনটি রসুলপুর বাজার সেতুও ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ ড্রেজারটি সেতুর পাশেই বসানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মাহমুদ প্রায় একযুগ ধরে আমাদের এলাকার ফসলি জমি ও কুমার নদ ধ্বংস করে বালু-মাটির ব্যবসা করে আসছে। অথচ তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
ড্রেজার মালিক মাহমুদ বলেন, কয়েকদিন আগে আমার ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ভেঙে দিয়েছিল প্রশাসন। এতে আমার অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাই উপর মহলকে ম্যানেজ করে পুনরায় বালু উত্তোলন শুরু করেছি। অভিযানে আমার যে টাকার ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ হলে ড্রেজার মেশিন উঠিয়ে ফেলবো।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বালী বলেন, মাহমুদের ড্রেজার কয়েকদিন আগে ভাঙা হয়েছে। সে যদি আবারও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে থাকে, তাহলে আবারও অভিযান চালানো হবে।